১৪ দিনে ওজন কমানোর কাহিনী

 সহজ পদ্ধতিতেই ৬ মাসে ৩৪ কেজি ওজন কমেছে খায়রুলের


১৪ দিনে ওজন কমানোর কাহিনী



অনেকেই এখন ওজন বেশি হওয়ার সমস্যাই ভুগছেন। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেকে সঠিক পদ্ধতি গ্রহণ না করার ফলে ওজন কমাতে পারেন না। আবার অনেকেই আছেন যারা ওজন কমাতে চাইলেও সেবিষয়ে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করেন। কারণ ওজন কমানোর যাত্রা বেশ কঠিন কাজ।


তবে এমন অনেক লোক রয়েছেন যারা এই সমস্যার সমাধানে শুধু ইচ্ছা পোষণ করেই বসে থাকেন না। তারা কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করে তাদের উদ্দেশ্য সফল করেন। শিক্ষক খায়রুল ইসলাম তাদেরই একজন। তিনি ঢাকা টাইমসে লিখেছেন তার ওজন কমানোর গল্প। যারা ওজন কমাতে চান তারা খায়রুল ইসলামের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেতে পারেন।



পরিচয়: মো. খায়রুল ইসলাম, পুঠিয়া, রাজশাহী।


পেশা: শিক্ষকতা।


সর্বাধিক ওজন: ১০৯ কেজি।


বর্তমান ওজন: ৭৫ কেজি


ওজন কমেছে: ৩৪কেজি


সময় লেগেছে: ৬ মাস


টার্নিং পয়েন্ট: ওজন বেশি থাকার কারণে আমার চলতে ফিরতে অসুবিধা হতো। জয়েন্ট পেইন, ব্যাক পেইন ছিল। ডাক্তার দেখালে ঔষধের সঙ্গে সঙ্গে ওজন কমানোর পরামর্শ দেন। একারণেই ওজন কমানোর সিদ্ধান্ত নিই। এক্ষেত্রে আমি ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের ডায়েট ফলো করেছি। এত সহজে ওজন কমানো যাবে বলে শুরুতে বিশ্বাস হয়নি কিন্তু শুরু করার পর হাতেনাতে ফল পেয়েছি।


প্রথম ৭দিনের খাবার: প্রথম ৭দিন শাক-সবজি, মাছ, মাংশ, খাটি ঘিয়ে ভাজা ডিম (৫/৬টা) প্রতিদিন পেটপুরে দিনে ৩/৪বার খেয়েছি। সকালের খাবার আগে আপেল সিডার ভিনেগার ৫মিলি লেবুর রসের সঙ্গে মিশিয়ে খেয়েছি। খাবার গুলো বেশি করে চিবিয়ে খেয়েছি। ভাত, রুটি, আলুসহ কার্বহাইড্রেট বা ফল গ্রহণ করিনি।


পরের ৭ দিনের খাবার: সকালের খাবার দেরি করে ১১টা ১২টার দিকে খেয়েছি। রাতের খাবার রাত ৮টার মধ্যে খেয়েছি, মাছ, মাংশ, গরু খাসির কলিজা খেয়েছি পরিমাণ মত।শরীর দুর্বল লাগলে হিমালয়ান পিংক সল্ট মিশিয়ে পানি খেয়েছি। শাক-সবজি খাটি সরিষার তেলে রান্না করা হয়েছে।তবে সরিষার তেল ছাড়াও এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল, এক্সট্রা ভার্জিন কোকোনাট ওয়েল খাওয়া যাবে, সয়াবিন বা অন্য কোনো তেল খাওয়া যাবে না। রাত ১০টা থেকে ১০.৩০টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়েছি।


১৫ দিন পর থেকে রোজা রেখেছি ভোরে লবন মিশ্রিত পানি পান করে। রোজা না রাখলে ২০ ঘন্টা না খেয়ে থেকেছি। খুব পিপাসা লাগলে পিংক সল্ট মিশিয়ে পানি পান করেছি।


ব্যায়াম: একদিন পরপর সকালে ইয়োগা ব্যায়াম করেছি ১-১.৩০ ঘন্টার মতো। রোজা রাখলে বিকালে ৮-১০ কিলোমিটার হাঁটাহাঁটি করেছি।


আগের এবং পরের অনুভূতি: ওজন বেশি থাকার সময় ব্লাড প্রেসার অনেক হাই (১৫০/৯৫) থাকত। রাতে ঘুমাতে পারতাম না। ফ্যাটি লিভার ছিল। এখন আমি অনেক ভাল আছি। এখন আমার ব্লাড প্রেসার ১২০/৮০। ফ্যাটি লিভার নেই। এখন আল্লাহর রহমতে খুব ভাল আছি।


পরামর্শ: যারা শুরু করতে চান তাদের জন্য পরামর্শ হলো- সুস্থ্য থাকার জন্য ওজন কমানোর কোনো বিকল্প নাই।ওজন কমানোর জন্য মানষিক শক্তিই প্রধান হাতিয়ার। আপনি প্রথমে মনস্থির করুন সবাই পারলে আমিও পারবো, তাহলেই সম্ভব।



Comments

Popular posts from this blog

ইমাম আবু হানিফার সংক্ষিপ্ত জীবনী

ইমাম বুখারী এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

প্রাণ আর,এবং,এর এর কিছু তথ্য